Dr. Manash Mandal

বারবার প্রস্রাব—ডায়াবেটিস, কিডনি না কি স্নায়ুর সমস্যা?

আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে কারণ নির্ণয় ও সঠিক সমাধান

দিনে বা রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া অনেকেই হালকাভাবে নেন।
কিন্তু যখন

  • রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়,

  • বাইরে গেলে অস্বস্তি হয়,

  • শরীরে দুর্বলতা আসে,

তখন এই উপসর্গ আর সাধারণ থাকে না।

স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসে—
👉 এটা কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ?
👉 না কি কিডনির সমস্যা শুরু হয়েছে?
👉 নাকি মূত্রথলি বা স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়েছে?

আয়ুর্বেদ এই সমস্যাকে একটি উপসর্গ নয়, বরং শরীরের ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বারবার প্রস্রাব

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় Frequent Urination। সাধারণত তিনটি বড় কারণ বিবেচনা করা হয়—

১. ডায়াবেটিসজনিত কারণ

রক্তে চিনি বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করতে চেষ্টা করে।
এর ফলেই প্রস্রাবের সংখ্যা বেড়ে যায়।

সাধারণ লক্ষণ—

  • দিনে ও রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব

  • অস্বাভাবিক তেষ্টা

  • দুর্বলতা ও ওজন কমে যাওয়া

  • ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া

👉 অনেক ক্ষেত্রে এটাই ডায়াবেটিসের প্রথম লক্ষণ

২. কিডনির সমস্যা

কিডনি যখন ঠিকমতো জল ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন প্রস্রাবের ছন্দ বদলে যায়।

সাধারণ লক্ষণ—

  • রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া

  • সকালে চোখ বা মুখ ফোলা

  • প্রস্রাবে ফেনা

  • শরীর ভারী লাগা ও ক্লান্তি


৩. স্নায়ু বা মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণ সমস্যা

মূত্রথলি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু দুর্বল হলে প্রস্রাবের বেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

সাধারণ লক্ষণ—

  • অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব

  • হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের চাপ

  • প্রস্রাব চেপে রাখতে না পারা

👉 দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকলে এই ধরনের নার্ভ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে বারবার প্রস্রাব

আয়ুর্বেদে এই সমস্যাকে মূলত প্রমেহ (Prameha)বস্তি বিকার-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

এটি কেবল একটি অঙ্গের সমস্যা নয়, বরং একটি সিস্টেমিক ডিসঅর্ডার


আয়ুর্বেদীয় মূল কারণসমূহ

১. অগ্নি দুর্বলতা

হজমশক্তি দুর্বল হলে শরীরে আম (অপরিপাকজাত বিষ) তৈরি হয়।
এই আম রক্ত ও মূত্রবাহ স্রোতের সঙ্গে মিশে প্রস্রাবের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করে।


২. কফ দোষের বৃদ্ধি

কফদোষ বাড়লে শরীরে অতিরিক্ত জল জমে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়।
এটি বিশেষত স্থূলতা ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে বেশি দেখা যায়।


৩. বাত দোষের অস্থিরতা

বাতদোষ মূত্রথলির স্নায়ুকে অস্থির করে তোলে।
এর ফলে প্রস্রাবের উপর নিয়ন্ত্রণ কমে যায়।


৪. মেদ ও মূত্রবাহ স্রোতের বিকৃতি

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে এই দুটি স্রোত বেশি প্রভাবিত হয়।

কীভাবে বোঝা যায় সমস্যার উৎস কোথায়?

আয়ুর্বেদে রোগ নির্ণয়ে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করা হয়—

  • অতিরিক্ত তেষ্টা ও ওজন কমা → ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা

  • সকালে মুখ/চোখ ফোলা, প্রস্রাবে ফেনা → কিডনির দিক ভাবা দরকার

  • প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা → স্নায়ু বা মূত্রথলির সমস্যা

  • হজম খারাপ, পেট ভারী → অগ্নি ও কফ দোষ


আয়ুর্বেদের চিকিৎসা পদ্ধতি

আয়ুর্বেদ শুধু প্রস্রাব কমানোয় থেমে থাকে না, বরং মূল কারণ সংশোধন করে

চিকিৎসার প্রধান দিকগুলো—

  • অগ্নি দীপন ও আমপাচন

  • প্রমেহনাশক ও বস্তি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা

  • স্নায়ু ও মূত্রথলি শক্তিশালী করার থেরাপি

  • প্রয়োজন অনুযায়ী পঞ্চকর্ম

  • আহার ও জীবনযাপনের সংশোধন

আহার ও জীবনযাপনের পরামর্শ

  • অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন

  • রাতে দেরিতে খাওয়া বন্ধ করুন

  • হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করুন

  • নিয়মিত হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম করুন

  • মানসিক চাপ কমান

  • প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস করবেন না


উপসংহার

বারবার প্রস্রাব হওয়া কোনও তুচ্ছ সমস্যা নয়।
এটি হতে পারে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক সংকেত, কিডনির সতর্কবার্তা বা স্নায়ুর দুর্বলতার ইঙ্গিত।

আয়ুর্বেদ এই সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে, শরীরকে ভেতর থেকে সংশোধন করে—শুধু উপসর্গ চাপা দেয় না।


 

আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যদি
বারবার প্রস্রাব, অতিরিক্ত তেষ্টা, দুর্বলতা বা রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন—

🌿 নির্মলা আয়ুর্বেদ ভেষজ, ফালাকাটা
🏠 সরাসরি চেম্বারে আসুন
💻 অথবা অনলাইন পরামর্শ নিন

📲 WhatsApp করুন:
👉 916291957581

সময়মতো সঠিক দিকনির্দেশই বড় অসুখ থেকে রক্ষা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top